প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে বর্তমানে বিশ্বে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ বিলিয়ন এর কাছাকাছি. এরমধ্যে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী রয়েছে চার বিলিয়নের মত। কারন এটার দামে সস্তা ও সকল সুবিধা সম্পূন্ন একটি ডিভাইস। প্রযুক্তি যেহেতু মানুষের সৃষ্টি তাই এর কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে যেমনটি অ্যান্ড্রয়েডের রয়েছে। এন্ড্রয়েড ফোনের বড় কিছু সমস্যার মধ্যে একটি হল এটা খুবই দ্রুত স্লো হয়ে যায়। পরবর্তী কিছু সময় পর থেকেই এ সমস্যাটি দেখা গেছে । তাই সবাই আগে থেকেই চিন্তা করে কিভাবে এই সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া যায়।
আজ আমরা এই সমস্যা থেকে সমাধানের একটি দীর্ঘ স্থায়ৗ সমাধান নিয়ে কথা বলব।
- স্মার্টফোনটি আপডেট করা।
এটাকে ফার্মওয়্যার
আপডেট বলা
হয়। আপনার
ফোনের সেটিং
অপশনে গেলে
সবার প্রথমে
একটি আপডেট
রিকোয়ার অপশন
পাবেন। সেখানে
ক্লিক করলেই
আপনি আপনার
ফোনের আপডেট
সকল তথ্য
জানতে পারবেন
আর দেখতে
পারবেন আপডেট
এর ফলে
কি সকল
নতুন সুবিধা
যোগ হচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে আপনি
বুঝতে না
পারলেও আপডেট
এর ফলে
স্মার্টফোনের কিছু
না কিছু
নতুন ক্যাপাবিলিটি
যুক্ত হয়।
যা স্মার্টফোন
কোম্পানি তাদের
ডিভাইসের পারফরম্যান্স
বৃদ্ধির কারণে
করে থাকে।
তাই পার্মানেন্টলি
আপডেট, যথেষ্ট
গুরুত্বের সাথে
ডিভাইসটি স্লো
হওয়ার হাত
থেকে রক্ষা
করতে ব্যবহার
করবেন।
- স্মার্ট ফোনটি রিসেট করা।
আপনার হয়তো
মনে থাকবে
যখন আপনি
প্রথম ডিভাইসটি
ক্রয় করেন
তখন কি
সুন্দর ভাবেই
না কাজ
করেছিল। কিন্তু
ধীরে ধীরে
তা স্লো
হয়ে যায়
এর কারণ
কি? আসলে
আপনার অজান্তেই
বিভিন্ন সফটওয়্যার
ব্যবহারের কারণে
অসংখ্য ডাটা
ফাইল ডিভাইসটিতে
জমা হতে
শুরু করে।
আর এগুলো
এমন ধরনের
ফাইল যা
আপনার ডিভাইসে
অবস্থান করে
কিন্তু আপনি
তা দেখতে
পারবেন না।
আপনার শুধু
এটা চোখে
পড়বে যে
আপনার ডিভাইসের
ইন্টার্নাল স্তরেজ
দিন দিন
কমে যাচ্ছে।
আর এটি
হয় ওই
ফাইলগুলোর উপস্থিতির
কারণে। এর
হাত থেকে
রক্ষা পেতে
সবচেয়ে সহজ
পদ্ধতি হলো
ফোনটি রিসেট
করা।
সতর্কতাঃ ফোনটি রিসেট করার আগে মনে রাখবেন আপনার ইন্টার্নাল স্টোরেজ ও সফটওয়্যারে থাকা সকল ডাটা ডিলিট হয়ে যাবে। তাই যদি কোন প্রয়োজনীয় জিনিস থাকে যা আপনার পরবর্তীতে প্রয়োজন পড়তে পারে তা ব্যাকআপ এর ব্যবস্থা বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
3.
নিয়মিত আপনার মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজ চেক করবেনঃ ইন্টার্নাল স্টোরেজ বলতে মোবাইলে রোম স্টরেজকে বোঝায়। প্রথমে সেটিং অপশনে গিয়ে সবার নিচে স্টোরেজ নামে একটি অপশন পাবেন তাতে ক্লিক করলেই দেখতে পাবেন আপনার মোবাইলের স্টোরেজের পরিমাণ। স্টোরেজ 60% এর বেশি থাকলে বুঝতে পারবেন আপনার মোবাইলে ল্যাগ সমস্যা দিতে পারে। স্টোরেজ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজে থাকা বিভিন্ন রকম ভিডিও, অডিও, গেমস, অ্যাপ্লিকেশন মুছে ফেলুন বা এইচডি কার্ড ট্রান্সফার করতে পারেন।
তবে যাদের মোবাইলে এসটি কার্ড নেই বা যাদের মোবাইলে স্টোরেজের পরিমাণ কম তাদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কার্যকর নাও হতে পারে। কারণ স্মার্টফোনে ইন্টারনাল স্টোরেজ এর পরিমাণ কম হলে ব্যবহার করার সময় অন্যান্য ব্যবহারজনিত লোড না নিতে পারে স্মার্টফোনটি স্লো বা হ্যাং করতে পারে।
মোবাইল হ্যাং বা মোবাইলের ল্যাগ সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ এপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারেন যার সাহায্যে শর্টকাটে আপনার মোবাইলের এসকল সমস্যার সমাধান হতে পারে।
4.
Auto task killer. যাদের মোবাইল পুরনো হয়ে গেছে বা যারা মোবাইলে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে অলরেডি ব্যবহার শুরু করে দিয়েছেন তাদের জন্য এই অ্যাপ্লিকেশনটি কার্যকর হতে পারে। কারণ এই অ্যাপ্লিকেশনটি কিছু সময় পর পর আপনার নির্ধারিত অ্যাপ্লিকেশনের প্রসেস বা কুকি ক্লিন করার মাধ্যমে আপনার মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে।
তবে এ ক্ষেত্রে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে, যে সফটওয়্যার গুলোর স্টোরেজ ক্লিন করলে আপনার ব্যবহারে কোন সমস্যা হবে না সেই সকল সফটওয়ারই আপনি সিলেক্ট করে দিবেন। এক্ষেত্রে আপনি ব্রাউজার ইউটিউব এর মত ডাউনলোডিং সফটওয়্যার ব্যতীত সকল সফটওয়্যারই সিলেক্ট করে দিতে পারেন।
5.
Antivirus software. একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার স্টোরেজ ক্লিনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাইরাস ও ম্যালওয়ার ডিটেক্ট করে, পরবর্তীতে আপনার নির্দেশনা অনুযায়ী ডিলিট করার মাধ্যমে আপনার ডিভাইসকে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে সফটওয়্যার ইন্সটল করে বিভিন্ন সেটিং করার মাধ্যমে ভাইরাস ডিটেক্ট অপশনটি দেখে নিবেন। এতে করে পরবর্তীতে যখনই নোটিফিকেশন আসবে তখনই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার মোবাইলে ভাইরাস ডিটেক্ট হয়েছে কিনা। এবং ডিলিট করার মাধ্যমে নিজের মোবাইলের ডাটা সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।
টেকনোলজির বাজারে মানে প্লে স্টোরে অনেক অ্যান্টিভাইরাস পেয়ে যাবেন তবে তার মধ্যে থেকে আপনাকে সঠিক এন্টিভাইরাস বাছাই করে নিতে হবে। কিছু কোম্পানি আছে যারা এন্টিভাইরাসের নাম দিয়ে এমন কিছু সফটওয়্যার তৈরি করে যা আপনার মোবাইলের ডাটা চুরি করে থাকে তাই আপনাকে এন্টিভাইরাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুরক্ষার কথা মাথায় রাখতে হবে। সঠিক অ্যান্টিভাইরাস যেমনঃ- Clean Master, Avast Antivirus, One Booster, Phone Master.